Friday, December 11, 2020

খ্রিস্টানধর্মে কী কী হালাল বা বৈধ

 ১.খ্রিস্টানধর্মে ধর্ষণ হালাল।(দ্বি.বি ২২:২৮-২৯)

২.ব্যাভিচার হালাল।(২স্যামুয়েল১১:২-৫)

৩.যৌনদাসী হালাল।(১রাজাবলি১১:3)

৪.দাসপ্রথা হালাল।(১পিটার২:১৮ -১৯,ইফিষীয়৬:৫,১তিমথি৬:১-২,যাত্রা২১:২১,লেবীয়২৫:৪৪-৪৬)

৫.পিতা-পুত্রীর মৈথুন হালাল।(আদি১৯ঃ৩০-৩৮)

৬.শিশুকাম হালাল,শিশুবিবাহ হালাল।(আদি২২-২৬)

৭.তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করা ব্যাভিচারের শামিল।(মথি৫:৩২)

৮.মুণ্ডুপাত হালাল।(গণনা৩১:৯-১৮)

৯.নিজ কন্যাকে দাসী বানিয়ে বিক্রি হালাল। (যাত্রা২১:৭-৮)

১০.স্ত্রী প্রহার হালাল। (দ্বি.বি২৫:১১-১২)

১১.চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই হালাল।(দ্বি.বি২০:১৪)

১২.সৎ মাকে ধর্ষণ হালাল। (আদি৩৫:২২,২স্যামুয়েল১৬:২২)

১৩.দেবরের সাথে মৈথুন হালাল।(আদি৩৮:৮-১৯)

১৪.যতখুশি বহুবিবাহ হালাল।(১রাজাবলি১১:৩০)

১৫.দাসদাসীদের প্রহার করা হালাল।(যাত্রা২১:২১,লূক১২:৪৭-৪৮)

১৬.অস্থায়ী/মুতা বিবাহ হালাল।(দ্বি.বি২৪:১-২)

১৭.নির্দোষ মানুষকে অভিশাপ দেয়া হালাল। (মথি২৩:৩৬)

১৮.পুত্রবধুর সাথে যৌনমিলন হালাল।(আদি ৩৮)

১৯.সৎবোনকে বিয়ে হালাল।(আদি২০:১২)

২০.সৎবোনকে ধর্ষণ হালাল।(২স্যামুয়েল১৩:১১-১৪)

২১.জাতিগত নিধন/গণহত্যা চালানো হালাল। (দ্বি.বি২০:১৩-১৬,হোশেয় ১৩:১৬,ইব্রীয় ১১:৩২-৩৪)

২২.উঁচু-নিচু বৈষম্য সৃষ্টি হালাল।(মথি১৫ঃ২৩-২৬)

২৩.উলঙ্গ হয়ে চলাফেরা করা হালাল।(যীশাইয়২০:২-৮)

২৪.বিধর্মী লোকদের কুকুর,গাধা,শুয়োর ইত্যাদি বলে গালাগালি করা হালাল।

(মথি১৫:২৬,৭:৬;আদি১৬:১২)

২৫.সরলপ্রাণ বিধর্মীদের খানাপিনার নামে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হালাল।(১রাজাবলি১৮:৪০,২রাজাবলি ১০:১৮-২৮)

২৬.পিতার দোষে পুত্রকে শাস্তি দেয়া হালাল।

(যীশাইয় ১৪:২১,যাত্রা২০:৫)

২৭.বিদেশিদের এলাকায় গিয়ে তাদেরই মন্দির,মূর্তি,বেদী ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে আসা

হালাল।(যাত্রা৩৪ঃ১৩)

২৮.নিরস্ত্র বন্দীদের জবাই করা,পুড়িয়ে মারা হালাল।

(২ স্যামুয়েল ১২:২৯-৩১)

২৯.অহেতুক গাছপালা,অবুঝ পশুপাখিকে হত্যা করা হালাল।(মথি২১:১৯,মার্ক১১:১৩-১৪,৫:১০-১৩,১ স্যামুয়েল ১৫:১-৩)

৩০.কন্যাসন্তানকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হালাল।(গণনা২৭:৮)

৩১.মদ্যপান হালাল।(যোহন২:১-১০)

৩২.যীশুকে বিশ্বাস না করলেই হত্যা করা হালাল।(লূক১৯:২৭)

৩৩.বিধর্মীদেরকে আগাছার মতো উপড়ে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়া হালাল।(মথি ১৫:১৩-১৪)

৩৪.কন্যা সন্তানকে শিক্ষার অধিকার/স্কুলে পাঠানো থেকে বঞ্চিত করা হালাল।

(১করিন্থীয়১৪:৩৫)

৩৫.গালিগালাজ করা হালাল।(মথি ১৬:২৩,২৩:১৩-৩৩)

৩৬.পূর্ববর্তী নবি-রাসুলদের চোর-ডাকাত বলে গালি দেওয়া হালাল।(যোহন ১০:৭-৮)

৩৭.নাস্তিকহত্যা হালাল।(২বংশাবলি১৫:১৩,লেবীয়২৪:১৬)

৩৮.প্রতারণা করা হালাল।(আদি ২৭,মালাখি ১:২-৩)

৩৯.বিধবা ভাবীর গর্ভে দেবর,ভাসুর,শ্বশুড় দ্বারা সন্তান উৎপাদন/নিয়োগ প্রথা হালাল।

(আদি৩৮:৮-৩০)

৪০.চটি গল্প/অশ্লীল কবিতা লেখা হালাল।

(পরমগীত১:১-৭,৭:৭-৯পরমগীত ৪:৫,যিহিষ্কেল ২৩:৩)


ইতি,

নাবিল খান নেবুদা



খ্রিস্টান বনাম মুসলিম সংলাপ প্রথম পর্ব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 
স্রস্টার প্রতি সৃষ্টির বিনয় প্রকাশের ভাষার আক্ষরিক ও প্রায়োগিক অর্থ:
লেখা:শাইখ আল্লামা কিরানবী (রহঃ) এর বই "ইযহারুল হক (সত্যেরপ্রকাশ)"-বই থেকে সংগৃহীত 
\_____________________________/
সর্বশক্তিমান ঈশ্বর মহান আল্লাহ্ সুবহানু ওয়াতা'আলা হলেন আমাদের প্রভু,পালনকর্তা,সৃষ্টিকর্তা/স্রস্টা।সকল সৃষ্টিজগৎ তাঁরই নিপুণতম সৃষ্টি ও তাঁর দ্বারাই প্রতিপালিত। মহান স্রস্টা যখন কোন সৃষ্টিকে সম্বোধন করেন তখন তাঁর সম্বোধনের মধ্যে মালিকসুলভ নির্দেশনা থাকাই স্বাভাবিক।অপরদিকে বান্দা/দাস যখন তাঁর প্রভুকে সম্বোধন করবে বা প্রভুর বিষয়ে কথা বলবে তখন তার মধ্যে চুড়ান্ত বিনয় ও আকুতি থাকতে হবে।নবী/ভাববাদীগণ ছিলেন মহান আল্লাহর অনুগত ন্যায় নিষ্ঠ বান্দা/দাস।কাজেই তাঁদের কথার মধ্যে এই বিনয়,আকুতি,সমর্পণ সবচেয়ে বেশি থাকাই স্বাভাবিক।কাজেই এসকল ক্ষেত্রে সকল বক্তব্যকে শাব্দিক অর্থে গ্রহণ করলে তা নিঃসন্দিগ্ধ ভাবে বিভ্রান্তির জন্ম দিবে।আর বাইবেলের নতুন এবং পুরাতন নিয়মের অগণিত বক্তব্য সেটা প্রমাণ করে।এখানে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা যাক:
উদাহরণ ১:
King James Bible
And when he was gone forth into the way, there came one running, and kneeled to him, and asked him, Good Master, what shall I do that I may inherit eternal life?

"তিনি যখন পথে চলে গেলেন, তখন একজন দৌড়ে এসে তাঁর [যীশু] কাছে নতজানু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,''গুড মাস্টার, আমি কি করব যাতে আমি অনন্ত জীবনের অধিকারী হতে পারি?"(মার্ক ১০:১৭)[KJV BIBLE] 

And Jesus said unto him, Why callest thou me good? there is none good but one, that is, God.

যীশু তাকে বললেন,"আমাকে সৎ কেন বলছো?" ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ সৎ নয়।"(মার্ক ১০:১৮) [[KJV BIBLE] 

মার্কের ভাষ্যানুযায়ী বক্তব্য এখানেই শেষ।
(এই একই কথা আবার বর্ণনা করা হয়েছে লুকের ১৮:১৮-১৯)

তাহলে এখানে যীশু নিজেই স্বীকার করলেন যে,তিনি সৎ ছিলেন না কেবলমাত্র মহান ঈশ্বর ছাড়া অর্থাৎ তিনি [যীশু] অসৎ/পাপী।

উদাহরণ:২
"ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করেছ?" আমাকে রক্ষা করা থেকে এবং আমার যন্ত্রণার উক্তি থেকে কেন তুমি দূরে থাক?আমার ঈশ্বর, আমি দিনের বেলা ডাকি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না এবং রাতেও আমি নিরব থাকি না!"(গীতসংহিতা ২২:১-২)

ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টান পন্ডিতগণের মতানুসারে এই বক্তব্য হলো যীশুর।তাদের মতে যীশুই এই কথাটা বলেছেন।কারণ যীশু তাঁর তথাকথিত ক্রুশিফিকশনের সময় এরকমই উক্তি ব্যক্তি করেছিলেন যার প্রমাণ দেখুন :-"এল্লাই,এল্লাই,লামা শবাক্তানী। "যার অনুবাদ :প্রভু ...প্রভু!আবার আমায় কেন ত্যাগ করছো?"(মার্ক ১৫:৩৪; মথি ২৭:৪৬)।

উদাহরণ:৩
4. সেইভাবে যোহন হাজির হলেন ও প্রান্তরে বাপ্তিষ্ম দিতে লাগলেন এবং পাপের ক্ষমা,মন পরিবর্তন এবং বাপ্তিষ্মের বিষয় প্রচার করতে লাগলেন।
5. তাতে সব যিহূদিয়া দেশ ও যিরূশালেমে বসবাসকারী সবাই বের হয়ে তাঁর কাছে যেতে লাগল; আর নিজ নিজ পাপ স্বীকার করে যর্দ্দন নদীতে তাঁর মাধ্যমে বাপ্তিষ্ম নিতে লাগলো.........!
9....সেদিনের যীশু গালীলের নাসরৎ শহর থেকে এসে যোহনের কাছে যর্দ্দন নদীতে বাপ্তিষ্ম নিলেন।"(মার্ক ১:৪-৯)

●এখানে আমরা দেখেছি যে,যোহন ব্যপ্টাইজের বাপ্তাইজ ছিল তওবা (মন পরিবর্তন) ও পাপ মোচনের জন্য। আর মার্ক সে কথা ৪ ও ৫ নং ভার্সে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন।

লুক লিখিত সুসমাচারে নিম্নরুপ বর্ণিত হয়েছে:
"তাতে তিনি যর্দ্দনের কাছাকাছি সমস্ত অঞ্চলে গিয়ে পাপের ক্ষমা, মন পরিবর্তন এবং বাপ্তিষ্মের বিষয় প্রচার করতে লাগলেন।"(লুক ৩:৩)

মথি লিখিত সুসমাচারে রয়েছে:
"আমি তোমাদের মন পরিবর্তনের (repentance ;আরবিতে তওবার) নিমিত্তে জলে বাপ্তিষ্ম দিচ্ছি...(মথি ৩:১১)।

প্রেরিতদের কার্যবিবরণের ১৩ অধ্যায়ের ২৪ নং ভার্সে বলা হয়েছে:
"তাঁর আসার আগে যোহন সমস্ত ইস্রায়েল জাতির কাছে মন পরিবর্তনের বাপ্তিষ্মের কথা প্রচার করেছিলেন।"

আবার প্রেরিতদের কার্যবিবরণের ১৯ অধ্যায়ের ৪ নং ভার্সে বলা হয়েছে:-"পৌল বলেলন, যোহন মন পরিবর্তনের (তওবার) বাপ্তিষ্মের বাপ্তাইজিত করতেন....!
 
এখানে উপরের সবগুলো আয়াতই প্রমাণ করে যে,যোহন বাপ্তাইজের বাপ্তিস্ম ছিল পাপ মোচনের জন্য তওবার বা অনুতাপের বাপ্তিস্ম। আর যীশু এই বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে স্বীকার করার অর্থ এই যে,যীশু নিজের পাপ স্বীকার করে তওবা ও পাপ মোচনের বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন।কারণ এছাড়া যোহনের বাপ্তিস্মের মৌলিক আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। 

এছাড়া মথির সুসমাচারের ৬ অধ্যায়ে যীশু তাঁর শিষ্যদের যা প্রার্থনা শিক্ষা দিয়েছিলেন তাঁর মধ্যে রয়েছে:-"আর আমাদের অপরাধ সব ক্ষমা কর,যেমন আমরাও নিজের নিজের অপরাধীদেরকে ক্ষমা করেছি;13. আর আমাদেরকে পরীক্ষাতে এনো না,কিন্তু মন্দ থেকে রক্ষা কর।"(মথি ৬:১২-১৩)

একথা সুস্পষ্ট যে,যীশু তাঁর শিষ্যদেরকে যা প্রার্থনা শিক্ষা দিয়েছিলেন,তিনি সে প্রার্থনা নিজেও পালন করতেন।কারণ দ্বিতীয় বিষয়ের আলোচনা থেকে জানতে পারবেন যে,তিনি বেশি বেশি প্রার্থনা করতেন।আর বাইবেলের কোন বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় না যে,তিনি তাঁর শেখানো এই প্রার্থনাটি বাদ দিয়ে অন্য প্রার্থনা করতেন।কাজেই বাহ্যত বোঝা যায় যে:-"আর আমাদের অপরাধ সব ক্ষমা কর"-বলে তিনি বহুবার প্রার্থনা করতেন।অসংখ্যবার তিনি এভাবেই প্রার্থনা করেছেন বলে জানা যায়।

ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টানগণ নবী/ভাববাদীগণের জন্য নিষ্পাপ হওয়া শর্ত মনে করেন না।তাদের মতে ভাববাদীগণ পাপ করতে পারেন।তবে তারা যীশুর ক্ষেত্রে নিষ্পাপত্বের দাবি করেন।তারা দাবি করেন যে,মানবীয় ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও যীশু নিষ্পাপ ছিলেন।তাদের বিশ্বাস অনুসারে যীশু সৎ ছিলেন,ঈশ্বরের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিলেন,ঈশ্বর কতৃক পরিত্যক্ত ছিলেন না। কিন্তু আমরা দেখেছি যে,যীশু বলেছেন:

১)আমাকে কেন সৎ বলিতেছ ...?
২)ঈশ্বর আমার,ঈশ্বর আমার,তুমি কেন পরিত্যাগ করলে...?
৩)আমাকে রক্ষা করা থেকে এবং আমার যন্ত্রণার উক্তি থেকে কেন তুমি দূরে থাক?
৪)আমি দিনের বেলা ডাকি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না।
৫)যোহনের কাছে পাপ স্বীকার করে পাপ মোচন ও তওবার নিমিত্তে বাপ্তিস্ম গ্রহণ। 
৬)আমাদের অপরাধ সকল ক্ষমা করো।

(নোট:এছাড়া ধর্মের বা জন্মের কারণে পরজাতির মানুষদের কুকুর বলা,অকারণে সম্পূর্ণ নিরাপরাধ একটি বৃক্ষকে অভিশাপ দিয়ে মেরে ফেলা,ক্রোধান্বিত হয়ে মানুষকে শয়তান বলা যা অনুরূপ গালি দেওয়া ইত্যাদি 

এখন ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টানগণ অবশ্যই স্বীকার করতে বাধ্য যে,যীশুর এসকল বক্তব্যের আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করা যায় না বরং এগুলোকে বিনয় ও দাসত্বের প্রকাশ হিসেবে ধরতে হবে। তারা যদি এসকল বক্তব্যের আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করেন তবে তাদের কে অবশ্যই স্বীকার করতে বাধ্য যে যীশু প্রকৃতপক্ষেই পাপী/অসৎ ছিলেন,তিনি ঈশ্বরের পরিত্যক্ত ছিলেন,তিনি মুক্তি থেকে দূরে ছিলেন,ঈশ্বর তাঁর ডাকে সাড়া দিতেন না বা তাঁর প্রার্থনা কবুল করতেন না ,তিনি পাপী ছিলেন। তারা [খ্রিস্টানরা] যেহেতু স্বীকার করবেন না,সেহেতু তারা বলতে বাধ্য হবেন যীশুর মানবীয় সত্তা ঈশ্বরের প্রতি দাসত্বের প্রকাশ ,আকুতি ও বিনয় হিসেবে এসকল কথা বলেছেন। 

গীতসংহিতাতে বলা হয়েছে:
2. "ঈশ্বর স্বর্গ থেকে মানবজাতির সন্তানদের প্রতি দেখলেন কেউ আছে কি না যে বুঝতে পারে ও যারা তাঁর খোঁজ করে।3. সবাই বিপথে গেছে, সবাই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে; ভালো কাজ করে এমন কেউ নেই, একজনও নেই "(গীতসংহিতা ৫৩:২-৩)।

যিশাইয় পুস্তকে বলা হয়েছে:
9. "এজন্য ন্যায়বিচার আমাদের থেকে দূরে থাকে আর ধার্মিকতা আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। আমরা আলোর জন্য অপেক্ষা করে থাকি, কিন্তু অন্ধকার দেখতে পাই; আমরা আলোর খোঁজ করি, কিন্তু অন্ধকারে চলি......!
12....... কারণ আমাদের অনেক অন্যায় তোমার সামনে আছে এবং আমাদের পাপ আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। কারণ আমাদের পাপ আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই রয়েছে এবং আমরা আমাদের পাপ জানি।
13. আমরা বিদ্রোহ করেছি, সদাপ্রভুকে অস্বীকার করেছি এবং আমাদের ঈশ্বরকে অনুসরণ করার থেকে দূরে সরে গিয়েছি৷ আমরা অত্যাচার ও বিপথে যাওয়ার কথা বলেছি, অভিযোগ এবং মিথ্যা কথা হৃদয়ে ধারণ করেছি।"(যিশাইয় ৫৯:৯-১৩)

এছাড়া যিশাইয়ের অন্যত্রে বলা হয়েছে:
6 "আমরা প্রত্যেকে অশুচি ব্যক্তির মত হয়েছি আর আমাদের সমস্ত ভালো কাজ নোংরা কাপড়ের মত। আমরা সবাই পাতার মত শুকিয়ে গিয়েছি; আমাদের পাপ বাতাসের মত করে আমাদের উড়িয়ে নিয়ে গেছে।
7. কেউ আর তোমার নামে ডাকে না, তোমাকে ধরতে কেউ চেষ্টা করে না; কারণ তুমি আমাদের থেকে তোমার মুখ লুকিয়ে রেখেছ এবং আমাদের পাপের কাছে সমর্পণ করেছ।"(যিশাইয় ৬৪:৬-৭)

 নিশ্চয়ই দাউয়ুদের যুগে অনেক সৎ ও ধার্মিক ব্যক্তি বিদ্যমান ছিলেন।নাথন ভাববাদী তাদের একজন। ত্রিত্ববাদী খ্রিস্টানদের মতে ভাববাদীগণের জন্য নিষ্পাপ হওয়া জরুরী নয়।তাদের এই বিশ্বাস অনুসারে মনে করা হয় যে,নাথন ভাববাদীও নিষ্পাপ ছিলেন না ,তবুও তো অন্তত ৫৩ গীতসংহিতা ৩ নং আয়াতের আক্ষরিক অর্থ তাঁর ও তাঁর মত ধার্মিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। 

যিশাইয় ভাববাদীর বক্তব্যে প্রথম পুরুষের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে।অর্থাৎ যিশাইয় ভাববাদী নিজের এবং অন্যান্য মানুষদের কথা এখানে বলেছেন।আমরা জানি যে,যিশাইয় ভাববাদী ,তাঁর যুগের অন্যান্য ভাববাদী এবং অন্যান্য অনেক সৎ ও ধার্মিক লোক সে সময়ে বিদ্যমান ছিলেন।তারা নিষ্পাপ না হলেও অন্তত একথা স্বীকৃত/নিশ্চিত যে,যিশাইয় ভাববাদীর উপযুক্ত বক্তব্যদ্বয়ের আক্ষরিক অর্থ তাঁদের উপর প্রয়োগ করা যায় না। কাজেই গীতসংহিতার উপযুক্ত বক্তব্য এবং যিশাইয় ভাববাদীর উপযুক্ত বক্তব্যদ্বয় কখনোই বাহ্যিক ও আক্ষরিক অর্থে সত্য হতে পারে না।বা আক্ষরিক ও বাহ্যিক অর্থে সেগুলিকে দাউদ,নাথন,যিশাইয় ও অন্যান্য ভাববাদীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না।বরং একথা অবশ্যই মানতে হবে যে,বান্দার আকুতি,স্রস্টার প্রতি অত্যন্ত বিনয় এবং অসহায়ত্ব ,দাসত্ব প্রকাশ করা এসকল বাক্যের উদ্দেশ্য।
দানিয়েল পুস্তকের ৯ অধ্যায়ে,যিরমিয়ের বিলাপের ৩ ও ৫ অধ্যায়ে,এবং ১ম পিতরের ৪র্থ অধ্যায়ে অনুরূপ বক্তব্য দেখা যায়।

Thursday, December 10, 2020

খ্রিস্টধর্ম খন্ডন পেইজের সাথে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন ইনশাআললাহ। বাইবেলের বৈপরীত্য পর্ব:০১

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

বাইবেলের বৈপরীত্য সিরিজ পর্ব:০১

বিষয়:-"যীশুর সমর্পণ বিষয়ক বৈপরীত্য 

\_________________________________/

যীশুর ১২ জন শিষ্যের মধ্যে একজন একজন জুদাস ইস্কারিয়োৎ (Judas Iscariot).!বাংলা বাইবেলে "ইস্করিতিয়ো যিহুদা " বা "ইস্করিতিয়ো এহুদা" বা "যিহুদা/এহুদা ইস্কারিয়োত "।তিনিই বিশ্বাসঘাতকতা করে যীশুকে ইহুদি যাজক ও প্রধানদের হাতে সমর্পণ করে। চারটা প্রচলিত ইঞ্জিলের মধ্যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যিহুদি নেতা ও যাজকরা যীশুকে চিনতেন না। যিহুদা তাদেরকে বলে আমি যাঁকে চুম্বন করব তিনিই যীশু। তাকে আপনারা ধরবেন। যীহুদা এসে তাঁর হাতে চুমু দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ইহুদিরা এসে যীশুকে ধরে ফেলে গ্রেফতার করে। লুক কিছু ব্যতিক্রম লিখেছেন এবং যোহন একেবারেই ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।বাইবেল বিশেষজ্ঞরা ও খ্রিস্টান পাঠকগণ সহজেই এ ব্যতিক্রম বুঝতে পারবেন। কিন্তু সাধারণ বাঙালি পাঠকের জন্য পুরো বক্তব্য উদ্ধৃতি দেওয়া প্রয়োজন যেন খুব সহজেই বুঝতে পারেন।


মথি লিখেছেন:-

"47. তিনি যখন কথা বলছিলেন, দেখ, যিহূদা, সেই বারো জনের একজন, এল এবং তার সঙ্গে অনেক লোক, তরোয়াল ও লাঠি নিয়ে প্রধান যাজকদের ও প্রাচীনদের কাছ থেকে এলো।

48. যে তাঁকে সমর্পণ করছিল, সে তাদের এই সংকেত বলেছিল, “আমি যাকে চুমু দেব, তিনিই সেই ব্যক্তি, তোমরা তাকে ধরবে।”

49. সে তখনই যীশুর কাছে গিয়ে বলল, “গুরু, নমস্কার, আর সে তাঁকে চুমু দিল।”

50. যীশু তাকে বললেন, “বন্ধু, যা করতে এসেছ, তা কর।” তখন তারা কাছে এসে যীশুর উপরে হস্তক্ষেপ করল ও তাঁকে ধরল।(গ্রেফতার করল)

51. আর দেখ, যীশুর সঙ্গীদের মধ্যে এক ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে তরোয়াল বার করলেন এবং মহাযাজকের দাসকে আঘাত করে তার একটা কান কেটে ফেললেন।"(মথি ২৬:৪৭-৫১)


মার্ক লিখেছেন:-

43. আর তিনি যখন কথা বলছিলেন, সেই দিন যিহূদা, সেই বারো জনের একজন এল এবং তার সঙ্গে অনেক লোক তরোয়াল ও লাঠি নিয়ে প্রধান যাজকদের, ব্যবস্থার শিক্ষকদের ও প্রাচীনদের কাছ থেকে এল।

44. যে যীশুকে ধরিয়ে দিচ্ছিল, সে আগে থেকে তাদের এই চিহ্ন এর কথা বলেছিল, আমি যাকে চুম্বন করব, সেই ঐ লোক, তোমরা তাকে ধরে সাবধানে নিয়ে যাবে।

45. সে তখনি তাঁর কাছে গিয়ে বলল, গুরু; এই বলে তাঁকে উত্সাহের সঙ্গে চুম্বন করলো।

46. তখন তারা যীশুকে বেঁধে ধরে ফেলল।(গ্রেফতার করল)

47. কিন্তু যারা পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাদের ভেতরে এক ব্যক্তি হাত বাড়িয়ে তরোয়াল বার করলেন এবং মহাযাজকের দাসকে আঘাত করে তার একটা কান কেটে ফেললেন।"(মার্ক ১৪:৪৩-৪৭)


পাঠক বন্ধুগণ দেখেছেন মথি ও মার্কের মধ্যে কয়েকটি শব্দের পার্থক্য ছাড়া সকল তথ্য একই।


কিন্তু লুক লিখেছেন:-

47. তিনি কথা বলছেন, এমন দিন দেখ, অনেক লোক এবং যার নাম যিহূদা সেই বারো জনের মধ্যে একজন সে তাদের আগে আগে আসছে; সে যীশুকে চুম্বন করবার জন্য তাঁর কাছে আসল।

48. কিন্তু যীশু তাকে বললেন, যিহূদা, চুম্বনের মাধ্যমে কি মনুষ্যপুত্রকে সমর্পণ করছ?

49. তখন কি কি ঘটবে, তা দেখে যারা তাঁর কাছে ছিলেন, তারা বললেন, প্রভু আমরা কি তলোয়ারের আঘাত করব?

50. আর তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি মহাযাজকের দাসকে আঘাত করে তার ডান কান কেটে ফেললেন.....!

54. পরে তারা তাঁকে ধরে নিয়ে গেল....।"(লুক ২২:৪৭-৫৪)


উপরোল্লিখিত উদ্ধৃতিতে মথি ও মার্কের সাথে লুকের শব্দের পার্থক্য ছাড়াও তথ্যের ভিন্নতা পাঠকের নিকট সুস্পষ্ট।অর্থাৎ মথি এবং মার্কের সাথে লুকের তথ্য মিলে না অর্থাৎ পরস্পর বিপরীত/বিরোধী। প্রথম দুজনের (মথি ও মার্ক) বর্ণনায় "যিহুদা কিছু কথা বলে চুম্বন করেন।"আর লুকের বর্ণনাতে "যিহুদা কোন কথা না বলে যীশুকে চুম্বন করতে আসেন কিন্তু তিনি চুম্বন করেননি বরং চুম্বনের আগেই যীশু তার সাথে কথা বলেন।"এছাড়া প্রথম দুজনের বর্ণায় গ্রেফতারের পরে খড়গ বের করা ও কান কাঁটা নিয়ে ঘটনা ঘটে।পক্ষান্তরে লুকের বর্ণনায় গ্রেফতারের আগেই তা ঘটে।এরপরেও (যদিও মেনে নিলাম) আমরা মথি ও মার্কের বর্ণনার সাথে লুকের বর্ণনাকে সাংঘর্ষিক বলে গণ্য করছি না।আমরা ধরে নিচ্ছি যে তিনি চুম্বনের জন্য আগমন করার কথা বলে চুম্বন করা বুঝিয়েছেন এবং একই ঘটনা বর্ণনায় তিনি কিছু আগে পিছে করেছেন। 

কিন্তু যোহনের বর্ণনাকে সাংঘর্ষিক বলা ছাড়া কোন উপায় নেই। 


যোহন লিখেছেন:-

2. এখন যিহূদা, যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সেও জায়গাটা চিনত, কারণ যীশু প্রায়ই তাঁর শিষ্যদের নিয়ে সেখানে যেতেন।

3. তারপর যিহূদা একদল সৈন্য এবং প্রধান যাজকদের কাছ থেকে আধিকারিক গ্রহণ করেছিল এবং ফরীশীরা লন্ঠন, মশাল এবং তরোয়াল নিয়ে সেখানে এসেছিল।

4. তারপর যীশু, যিনি সব কিছু জানতেন যে তাঁর উপর কি ঘটবে, সামনের দিকে গেলেন এবং তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তোমরা কাকে খুঁজছো?

5. তারা তাঁকে উত্তর দিল, “নাসরতের যীশুর।” যীশু তাদের উত্তর দিল, “আমি সে।” যিহূদা, যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সেও সৈন্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিল।

6. সুতরাং যখন তিনি তাদের বললেন, “আমি হই,” তারা পিছিয়ে গেল এবং মাটিতে পড়ে গেল।

7. তারপরে তিনি তাদের আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কার খোঁজ করছ?” তারা আবার বলল, “নাসরতের যীশুর।”

8. যীশু উত্তর করলেন, “আমি তোমাদের বললাম যে, আমিই তিনি; সুতরাং তোমরা যদি আমাকে খোঁজ, তবে অন্যদের (শিষ্যদের) যেতে দাও....!

9...........................

10. তখন শিমোন পিতর, যার একটা তরোয়াল ছিল, সেটা আনলেন এবং মহাযাজকদের দাসকে আঘাত করেছিলেন এবং তার ডান কান কেটে ফেললেন। সেই দাসের নাম ছিল মল্ক।

11. যীশু পিতরকে বললেন, “তরোয়ালটা খাপের মধ্যে রাখ। আমার পিতা আমাকে যে দুঃখের পানপাত্র দিয়েছেন, আমি কি এটাতে পান করব না?”

যীশুকে হাননের কাছে আনা হলো।

12. সুতরাং একদল সৈন্য এবং দলপতি ও ইহূদিদের আধিকারিকরা যীশুকে ধরল এবং তাঁকে বাঁধলো।"(ইউহান্না/যোহন ১৮:২-১২)


পাঠক বন্ধুগণ দেখেছেন যে,লুকের সাথে মথি ও মার্কের সমন্বয়ের মত যোহনের সাথে সমন্বয়ের কোন পথই নেই। যোহন সম্পূর্ণ বিপরীত বর্ণনা দিয়েছেন।এখানে "যিহুদা যীশুকে চেনাতে আসেননি বরং স্থান চেনাতে এসেছেন। "যীশুকে চুম্বন দেওয়া তো দূরের কথা তিনি যীশুর সাথে কোন কথাও বলেননি,নিকটবর্তীও হননি। স্বয়ং যীশু নিজেই সৈন্যদের দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলেছেন। "এজন্য আমরা বৈপরীত্যের মধ্যে যোহনের সাথে মথি ও মার্কের বৈপরীত্য আলোচনা করেছি আর লুকের বিষয়টা সমন্বয়যোগ্য ধরে এগিয়ে গিয়েছি।  


লেখক:শাইখ ড.খন্দকার আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর (রহঃ) স্যার 

সংগৃহীত:পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা